4 October- 2022 ।। ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সাহিত্যে সিনেমায় একজন আমজাদ হোসেন

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রথিতযশা চলচ্চিত্রকারদের নাম উঠলে যার নাম নিঃসন্দেহে প্রথম সারিতে থাকবে। তিনি শুধু পরিচালকই নন, একজন সফল ঔপন্যাসিক, সংলাপ রচয়িতা, গীতিকার, প্রযোজক, শিল্প নির্দেশক, অভিনয়শিল্পীও। সর্বগুণান্বিত হয়ে একের পর এক কালজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাণ করে বাংলা চলচ্চিত্রকে করেছেন সমৃদ্ধ, তিনি কিংবদন্তী ‘আমজাদ হোসেন’।

সাহিত্যিক হিসেবে তিনি সুপরিচিত, উপন্যাস-ছোট গল্প ছাড়াও আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থও লিখেছেন। মুক্তিযুদ্ধ পূর্বকালীন যেই সিনেমা স্বাধীনতা আন্দোলনে যে গণজোয়ার এনেছিল সেই কালজয়ী সিনেমা ‘জীবন থেকে নেয়া’র সংলাপ রচয়িতা। গ্রাম বাংলার ভালোবাসার ছবি হিসেবে যে-ই ছবিটি সবচেয়ে বেশি সুপরিচিত, সেই বিখ্যাত সিনেমা ‘সুজন সখি’রও কাহিনীকার, সংলাপ রচয়িতা তিনি।

পৌরাণিক কাহিনী নিয়ে নির্মিত জনপ্রিয় ছবি ‘বেহুলা’র সংলাপ রচনাও তার হাত ধরেই। এ ছাড়া ধারাপাত, আনোয়ারা, আবার তোরা মানুষ হ, জয়যাত্রা, আকাশছোঁয়া ভালোবাসার মতো জনপ্রিয় ছবির কাহিনিকার তিনি। অভিনেতা আমজাদ হোসেন ‘জীবন থেকে নেয়া’র আলোচিত চরিত্র ‘মধু ভাই’ হয়ে অনবদ্য অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে তিনি গেঁথে আছেন। এ ছাড়া হারানো দিন, আগুন নিয়ে খেলা, বেহুলা, প্রাণের মানুষ, প্রেমী ও প্রেমী’সহ অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘জব্বার আলী’র নাম ভূমিকায় তিনিই অভিনয় করেছেন, ছবিয়ালের ‘২৬ দিন মাত্র’তেও অভিনয় করেন। গোলাপী এখন ট্রেনে, সুন্দরী সিনেমার সেই কালজয়ী গানের সৃষ্টিদাতা তিনি, প্রযোজনা, শিল্প নির্দেশনাও নিজেকে সুপরিচিত করেছেন।

পরিচালক আমজাদ হোসেন: আগুন নিয়ে খেলা (১৯৬৭) ও দুই ভাই (১৯৬৮); এই ছবি দুটি তিনি যৌথভাবে নির্মান করেন। জুলেখা, বাল্যবন্ধু, পিতাপুত্রের পর ১৯৭৬ সালে ‘নয়ন মনি’ নির্মাণ করেন নিজের লেখা উপন্যাস ‘নিরক্ষর স্বর্গে’ অবলম্বনে। ফারুক, ববিতা, আনোয়ার হোসেন, সুলতানা জামান, আনোয়ারা, রওশন জামিল, সৈয়দ হাসান ইমাম, এটিএম শামসুজ্জামান অভিনীত এই ছবিটি ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়, এবং ৩টি শাখায় জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে।

আমজাদ হোসেন একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশি সাহিত্যিক, অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা। চলচ্চিত্র রচনা, অভিনয় এবং পরিচালনা – প্রত্যেক ক্ষেত্রেই তিনি সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন এবং বাংলাদেশের অন্যতম কিংবদন্তী চরিত্ররূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আমজাদ হোসেনের জন্ম ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট জামালপুরে। ছেলেবেলা থেকেই তিনি লেখালেখির সাথে জড়িত হন। দেশ পত্রিকায় তার লেখা কবিতা ছাপা হয়। পঞ্চাশের দশকে তিনি পুরোদমে সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেন। পাশাপাশি ঢাকায় মঞ্চনাটকে অভিনয় শুরু করেন। ১৯৬১ সালে ‘তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে দিয়ে তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন এবং একই বছর ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৬৩ সালে তার লেখা নাটক অবলম্বনে পরিচালক সালাহ্‌উদ্দিন নির্মাণ করেন ‘ধারাপাত’ (১৯৬৩)। এটি তার রচিত প্রথম চলচ্চিত্র এবং এতে তিনি একটি প্রধান চরিত্রে অভিনয়ও করেন। এই সময়ে তিনি নন্দিত পরিচালক জহির রায়হানের সহকারী হিসেবে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে কাজ করেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘বেহুলা’ ও ‘আনোয়ারা’ (১৯৬৭)। ১৯৬৭ সালে তিনি নুরুল হক বাচ্চুর সাথে যৌথভাবে নির্মাণ করেন ‘আগুন নিয়ে খেলা’ (১৯৬৭)। একক পরিচালক হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন ‘জুলেখা’ (১৯৬৭) ছবি দিয়ে। এরপর তিনি নুরুল হক বাচ্চু, রহিম নওয়াজ ও মুস্তফা মেহমুদের সাথে যৌথভাবে ‘দুই ভাই’ (১৯৬৮) এবং এককভাবে ‘বাল্যবন্ধু’ (১৯৬৮) ও ‘পিতা পুত্র’ (১৯৭০) চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। আমজাদ হোসেন ইশকেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে উচ্চ চিকিৎসার জন্য সরকারী অনুদানে তাকে দেশের বাইরে পাঠানো হয়। ২০১৮ সালে ১৪ই ডিসেম্বর ৭৬ বছর বয়সে ব্যাংককে মৃত্যুবরণ করেন

Sharing is caring!



Leave a Reply

Your email address will not be published.



More News Of This Category


বিজ্ঞাপন


প্রতিষ্ঠাতা :মোঃ মোস্তফা কামাল

প্রধান সম্পাদক : মোঃ ওমর ফারুক জালাল

সম্পাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম(আমিন মোস্তফা)

নির্বাহী সম্পাদক: এ আর হানিফ

ইমেইল:ajsaradin24@gmail.com

টেলিফোন : +8802-57160934

মোবাইল:+8801725-484563,+8801942-741920
টপ