19 August- 2022 ।। ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১০১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯২১ সালের এই দিনে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ ঘটে প্রতিষ্ঠানটির। তৎকালীন ব্রিটিশশাসিত বাংলায় এটিই ছিল একমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এবারের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী প্রতিপাদ্য ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন : ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা’।

বাঙালি জাতির বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে আলোর মশাল নিয়ে সামনে এসেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করা হয় বাঙালি জাতির প্রতিবাদী স্বত্বার স্ফুরণ। ৪৮ থেকে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭১’র স্বাধীনতা সংগ্রাম, ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি পরতে পরতে এই নাম জড়িয়ে আছে।

১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তৎকালীন ব্রিটশ ভারতের ভাইস রয় লর্ড হার্ডিঞ্জ। এরপর পূর্ব ভাইস রয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আবেদন জানান ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, ধনবাড়ীর নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ বাংলার অন্য নেতারা।

২৭ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ব্যারিস্টার আর নাথানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠিত হয়। ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয় নাথান কমিটির ইতিবাচক রিপোর্ট।

ওই বছরই ডিসেম্বরে সেটি অনুমোদিত হয়। ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশনও ইতিবাচক প্রস্তাব দিলে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইনসভা পাশ করে ‘দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং-১৩) ১৯২০’।

আর ছাত্রছাত্রীদর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উন্মুক্ত হয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই। সে সময়কার ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর পূর্ববঙ্গ এবং আসাম প্রদেশ সরকারের পরিত্যক্ত ভবনগুলো এবং ঢাকা কলেজের (বর্তমান কার্জন হল) ভবনগুলোর সমন্বয়ে মনোরম পরিবেশ গড়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাকালে ৩টি অনুষদ ও ১২টি বিভাগ নিয়ে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রথম শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন। শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ জন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ববাংলার মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়ানোর পাশাপাশি শতবর্ষী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পাড়ি দিতে হয়েছে নানা চড়াই-উতরাই। এর মধ্যে প্রশংসার পাশাপাশি তীব্র সমালোচনা, কটাক্ষ সইতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, শিক্ষকদের মানসম্পন্ন গবেষণার স্বল্পতা। তবে এসব সমস্যা সমাধানে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শতবর্ষী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রথমবারের মতো হয়েছে মাস্টার প্ল্যান; যার মাধ্যমে দূর হবে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট। আধুনিকতার ছোঁয়া লাগবে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো খাতে। শিক্ষকদের গবেষণার মান বৃদ্ধি ও দক্ষ করে তোলার জন্যও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এর মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু ওভারসিস স্কলারশিপ বৃত্তি, ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর সংবলিত আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের জন্য শিক্ষক অনুদান এবং গবেষণা প্রকাশ কার্যক্রম চলমান রাখা।

আর এই প্রতিটি কাঠামোর স্বাধীনভাবে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা বাড়াতে হবে। এছাড়াও এই কাঠামোগুলোয় দায়িত্বশীল এবং গঠনমূলক চিন্তার প্রকাশ থাকতে হবে।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক চর্চা ও বিকাশ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অনেকে।

Sharing is caring!



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



More News Of This Category


বিজ্ঞাপন


প্রতিষ্ঠাতা :মোঃ মোস্তফা কামাল

প্রধান সম্পাদক : মোঃ ওমর ফারুক জালাল

সম্পাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম(আমিন মোস্তফা)

নির্বাহী সম্পাদক: এ আর হানিফ
কার্যালয় :-
৫৩ মর্ডান ম্যানশন (১২ তলা)
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০

ইমেইল:ajsaradin24@gmail.com

টেলিফোন : +8802-57160934

মোবাইল:+8801725-484563,+8801942-741920
টপ