2 July- 2022 ।। ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সবার দৃষ্টি পদ্মা সেতুতে;দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের হাতছানি

।।ফারজানা লাকি।।

সকল জল্পনা-কল্পনা কাটিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে ১৭ কোটি বাঙালির লালিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ মাথা উঁচু করে দ্বাড়িয়েছে। হাতছানি দিচ্ছে অর্থনৈতিক মুক্তির। এ যেন বাঙালির স্বাধীনতা পরবর্তী আরেক বিজয়। ঘাত-প্রতিঘাত আর সমালোচকদের কড়া সমালোচনায় যখন পদ্মা সেতুর নিমার্ণ কাজ ব্যাহত হচ্ছিল ঠিক সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোবল আর সঠিক দিক নির্দেশনায় দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলে পদ্মা সেতুর উন্নয়নের কাজের মহাযজ্ঞ।

বৈরী আবহাওয়া, নদীতে তীব্র স্রোত, বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনার প্রভাব আর ষড়যন্ত্র সব কিছুকে শক্তভাবে মোকাবেলা করেই আজকের এই পদ্মা সেতু। কিছুদিন আগেও যারা গুজব ছড়িয়েছিলেন তাদের মুখেই এখন শোভা পাচ্ছে পদ্মা সেতুর গুণগান। বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে যে দাবায়ে রাখা সম্ভব নয় সেটা তারা বুঝেই এখন সুর পাল্টাচ্ছেন।দেশে বিদেশ সব জায়গায় এখন পদ্মা সেতু নিয়ে আলোচনা। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে একথা প্রতীয়মান বঙ্গবন্ধুর বাঙালিরা চাইলে অসাধ্যকে সাধন করতে পারে।

পদ্মাসেতু দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের দ্বার উন্মোচন করছে।
কাঁচামাল ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার মালিকরা পর্যন্ত তাদের ব্যবসা বানিজ্যের নতুন পরিকল্পনা আঁকছে।এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের নজর এখন দক্ষিণাঞ্চলের দিকে।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থলবন্দর মংলা বন্দর ও পায়রা বন্দরের একটি দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালীর পায়রা নদী ঘেঁষে অবস্থিত হওয়ায় পন্য খালাস ও দ্রুত সময়ে পন্য ঢাকা সহ সারাদেশে পৌঁছে যাবে।

বরগুনা,বরিশাল,ভোলা,,ঝালকাঠি,পটুয়াখালী এবং
পিরোজপুর এ ছয়টি জেলা নিয়ে গঠিত বৃহত্তর বরিশাল বিভাগ গঠিত।ঢাক সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেতে এখানকার মানুষদের লঞ্চ ও বাসের উপর নির্ভর করতে হতো।বেশিরভাগ এলাকা থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে লঞ্চে চলে যায় বারো ঘন্টা, অপরদিকে বাসে ০৬ থেকে ০৮ ঘন্টা। এছাড়া বিভিন্ন মালামাল নিয়ে ঢাকার বাজারে পৌঁছাতে মাওয়া কাওরাকান্দি রুটে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়।পদ্মাসেতুর কারনে থাকবে না এ ভোগান্তি, যার ফলে ব্যবসা বানিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে আশাবাদী এ অঞ্চলের মানুষ।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সমূদ্র সৈকত যা পর্যটকদের কাছে সাগরকন্যা নামে পরিচিত ।
দেশ বিদেশি অসংখ্য পর্যটকদের পদচারণায় সারাবছরই মুখরিত থাকে কুয়াকাটা।কুয়াকাটা সমূদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে হোটেল,মোটেল,আবাসন ব্যবসা,মৎস্য ব্যবসা,শুটকি ব্যবসা সহ নানান ব্যবসা বানিজ্য।

দেশে পর্যটন খাতে বছরে আয় ৯৫০ বিলিয়ন টাকা। পর্যটন খাতে এখন পর্যন্ত মোট কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের। ২০১৯ সালে দেশের জাতীয় আয়ে পর্যটন খাতের অবদান ছিল ৯৫০ দশমিক ৭ বিলিয়ন টাকা যা জিডিপির ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। কোভিড-১৯ এর কারণে অন্যান্য শিল্পের মতো পর্যটন শিল্পেও এর প্রভাব পরে।যে প্রভাব কাটিয়ে অনেকটাই ঘুরে দ্বাড়িয়েছে।ফলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে পরিণত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। সেক্ষেত্রে পদ্মা সেতুর কারণে কুয়াকাটা সমূদ্র সৈকত জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে যথেষ্ট অবদান রাখবে।

বরিশাল বিভাগের ০৬ টি জেলার পাশাপাশি খুলনা বিভাগের বাগেরহাট, মংলা,সাতক্ষীরা সহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হবে

Sharing is caring!



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



More News Of This Category


বিজ্ঞাপন


প্রতিষ্ঠাতা :মোঃ মোস্তফা কামাল

প্রধান সম্পাদক : মোঃ ওমর ফারুক জালাল

সম্পাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম(আমিন মোস্তফা)

নির্বাহী সম্পাদক: এ আর হানিফ
কার্যালয় :-
৫৩ মর্ডান ম্যানশন (১২ তলা)
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০

ইমেইল:ajsaradin24@gmail.com

টেলিফোন : +8802-57160934

মোবাইল:+8801725-484563,+8801942-741920
টপ