18 May- 2022 ।। ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মেধাবী তরুন গীতিকার নিধান আহমেদ। সাক্ষাৎকার

আশরাফুল অন্তরঃ
নিধান আহমেদ। পুরো নাম মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ মিলন।সংগীত জগতে এসে হয়ে গেছেন নিধান আহমেদ। তিনি একজন গীতিকার, সুরকার, শিল্পী ও টিভি নাট্যকার। বর্তমানে তিনি ভালোই ব্যস্ত সময় পার করছেন গান ও নাটক রচনায়।গীতিকবি হিসেবে এখন তিনি বেশ পরিচিত। তবে নাট্যকার হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছেন আপন গতিতে। আজ এমন বহুমুখী প্রতিভাবান মানুষের সাথে সাক্ষাৎকার গ্রহন করলাম।
প্রশ্ন -কেমন আছেন?
উত্তর-আলহামদুলিল্লাহ।
প্রশ্ন -অনেক দিকেই আপনার প্রতিভা।কোনটা তে বেশি সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
উত্তর -সত্যি বলতে এত এত পাওয়ায়ফুল প্রতিভা আমার ভেতর নেই।এরপরও যদি বলেন লেখাতেই আমার বেশি আনন্দ।সেটা গান অথবা নাটক যেটাই হোক।
প্রশ্ন-শুরুটা কিভাবে হয়েছিলো?
উত্তর -আমি ছোট বেলা থেকেই গান শোনার সুযোগ পেয়েছিলাম।তখন ২০০০ সাল।বাবা একটা টেপ রেকর্ডার কিনেছিলেন।সবার বাড়িতে এটা সে সময় ছিলো না।আমার বাড়িতে থাকার কারণে আমার সুযোগ হয়েছে।প্রচুর গান শুনতাম।মনির খানের প্রায় সব এলবাম ই আমার সংগ্রহে ছিলো।একটা এলবামের দাম ছিলো ২৫/৩০ টাক।এই টাকা জোগাড় করতে মাঝে মাঝে আমি অন্যের ক্ষেতে কামলা দিয়েছি।যদিও আমার বাবার অভাব ছিলো না।কিন্তু বাবার কাছে থেকে টাকা চাওয়ার সাহস হতো না।তো সেই গান শুনে শুনে আমার ভিতরে একটা বাসনা জাগে আমিও যদি গান লিখতে পারতাম।ক্লাস নাইন থেকে গান লেখার চেষ্টা করি।তবে মায়ের ইচ্ছে ছিলো আমি শিল্পী হই।সে জন্য মফস্বলে একটা গানের স্কুলে মা আমাকে ভর্তি করায়।৩/৪ মাস ক্লাস করে আমার ভালো লাগেনি।আমাত খুব লজ্জা ছিলো।তাই গান লেখার প্রতি আমার আগ্রহ ছিলো বেশি।তখন থানা ভিত্তিক লোকাল পত্রিকায় গানের মতো দু চার টা লেখা প্রকাশ হয়।আর সেটা দেখে গ্রামের অনেকে টিটকারি মেরেছে।
প্রশ্ন-প্রথম গীতিকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন কবে?
উত্তর-২০০৭ সালের শেষের দিকে।আমি এস এস সি পাস করার পর ইন্টারে ভর্তি হলাম।তখন আমার পরিবারে খুব অভাব অনটন।বাবা ঋণগ্রস্থ ছিলো।এর মাঝেও বিরাট স্বপ্ন৷ দেখতাম।কারণ তখন ক্যাসেটের যুগ ছিলো।আমি শুনতাম প্রতি গানে নাকি ৪/৫ হাজার টাকা আয় করা যায়।আমার প্রায় ৩০০/৪০০ গান লেখা আছে।মা কে ম্যানেজ করি,আমি ঢাকায় যাবো।একবার গীতিকার হতে পারলে আমাদের সকল ঋণ পরিশোধ করতে পারবো।মা ও সম্মতি দিলো।চলে এলাম ঢাকায়।আমার সবথেকে প্রিয় গীতিকার সুরকার ছিলেন শ্রধ্যেয় মিল্টন খন্দকার। ঢাকায় আমার চাচার বাসায় থেকে তাকে নিয়ে অনেক দৌড়ালাম। অনেকের কাছে গেলাম।পরে মিল্টন খন্দকার এর সন্ধান পেলাম।সেখানে গিয়ে বুঝলাম স্বপ্ন৷ আর বাস্তবতা অনেক ফারাক।মিল্টন খন্দকার আমাকে পরামর্শ দিলেন,তোমার লেখা ভালো কিন্তু তোমার মাত্রা জ্ঞান তাল লয় এসব নাই।তাই তোমাকে এই বেসিকগুলো জানতে হবে।তিনি আমাকে তার গীতিকাব্য চর্চায় ভর্তি করিয়ে নিলেন।চাচা আমাকে একটা বাসা ঠিক করে সেখানে তুলে দিলেন।বাসা ছিলো মোহাম্মদপুরে তাজমহল রোড।আমি মোহাম্মদপুর থেকে প্রতি সপ্তাহে রামপুরা যেতাম ক্লাস করতে।মাঝে মাঝে টাকা না থাকায় রামপুরা থেকে পায়ে হেঁটে ফিরেছি।পাশাপাশি চাচা আমাকে তার একটা বন্ধুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন।ভোরের শিশির নামে একটা পাবলিশার্স ছিলো তার।নাম রিয়াজউদ্দিন চপল।তিনি একটা কোচিং এর আয়োজন করেছিলেন।সেখানে সাহিত্যের উপর ১৫ দিনের একটা কোর্চ করলাম।দেশের যত নামি দামি কবি সাহিত্যিকের ক্লাস করে বুঝলাম আমি কিছু না।আমাকে অনেক জানতে হবে শিখতে হবে।এভাবেই শিখলাম জানলাম।এরপর মিল্টন খন্দকার আমাকে আমার লেখা ৪টি গান সুর করে দিলেন।সেই সুর করা গান নিয়ে আমি গেলাম রেজা মাহমুদ এর কাছে।রেজা মাহমুদ তখন নাম করা মিউজিক ডিরেক্টর। ইমন খানের আজো প্রতিরাত জেগে থাকি তোমার আশায় গানের হিট ডিরেক্টর।তিনি মিল্টন খন্দকার এর সুর করা গান বলেই আমার ৪টি গানের কাজ শেষ করলেন।কিন্তু দুঃখের বিষয় মাত্র একটা গানই ক্যাসেটে প্রকাশ পেলো।তাও ইমন খানের কন্ঠে।
প্রশ্ন-২০০৭ থেকে ২০২২ অসংখ্য কাজ হবার কথা কিন্তু সেভাবে আগাতে পারলেন না কেন?
উত্তর-পারিবারিক অনেক সমস্যায় পড়েছিলাম।২০০৮ এ আমি ইন্টার পাস করে উপার্জন এর দিকে ঝুকতে হয়েছিলো। আর এর মাঝেও আমি অনেক নামি দামি ছোট বড় শিল্পী, সংগীত পরিচালক এর সরনাপর্ণ হয়েছি।জুতার তলা ক্ষয় করেছি কিন্তু কেউ আমার গান গাইতে চায় নি।নানা জনে নানা জ্ঞান দিয়েছে,টাকা ইনভেস্ট এর কথা বলেছে।তাই ভাবলাম কেউ যখন আমার গান গাইবে না তাহলে নিজেই গাইবো।এই জিদ থেকে আসলে গান গাইতে আসা।প্রকৃতপক্ষে আমি কোনো শিল্পী নই।
শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন কবে?
উত্তর-তখন ২০০৯ সাল।আমি নারায়ণগঞ্জ এ মার্কেটিং৷ এ রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে চাকরি করি।মার্কেটে পরিচয় হয় বন্ধু শাহীন হক এর সাথে।সে নিজেও মার্কেটিং চাকরি করতো।তার তখন অলরেডি শিল্পী হিসেবে একটা গানের এলবাম বাজারে প্রকাশ হয়েছে।কথায় কথায় নারায়ণগঞ্জ এর মিউজিক ডিরেক্টর আমজাদ হাসানের কথা বলে।সে আমাকে নিয়ে আমজাদ হাসানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।তখন তাকে আমি খালি গলায় গান শোনাই।তিনি গান শুনে বলেন তুমি নিজেই গান গাইতে পারো।গলা তো খারাপ না।এরপর শুরু করলাম তার কাছে গানের কাজ।বেতন থেকে টাকা বাচিয়ে মাসে মাসে তাকে কম্পোজের টাকা দিতে থাকলাম।এভাবে প্রায় আড়াই বছরে ৪টা গানের কাজ করলাম।আমার মতো আরো নতুন ৩জন শিল্পী নিয়ে একটা এলবাম।তখন তো একটা গান রিলিজ করা যেতো না।সিডিতে মোট ১২ টা গান ছিলো প্রথম এলবামে।আর সেই এলবামে আমার ৪টা।দূরে শিরোনামে এলবাম বেরুলো ২০১২ সালে।এইতো এভাবেই শিল্পী হয়ে ওঠা।তবে নিজেকে শিল্পী পরিচয় দিতে লজ্জা করে।কারণ শিল্পী হবার যোগ্যতা আমার নেই।
প্রশ্ন-অনেক যুদ্ধ করেছেন তাহলে।বর্তমানে টিভি নাটক লিখছেন।নাট্যকার হবার ইচ্ছে কেন হলো?
উত্তর-দেখুন আগেই বলেছি লেখালেখি টা আমার বেশি আগ্রহের।নারায়ণগঞ্জ এসে আমি বিভিন্ন সাহিত্য সংস্কৃতির সাথে জড়িয়েছিলাম।লিটিলম্যাগ পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম।কবিতা গল্প উপন্যাস লেখার চেষ্টা ও করেছি যদিও সেসব মান সম্মত নয়।অনেক বই পড়েছি।একটু একটু করে সামান্য জ্ঞান অর্জন অনেক বেশি নাটক দেখে দেখে নাটকের প্রতি একটা আগ্রহ তৈরি হয়।প্রথম নাটক ২০১২ তেই লিখেছিলাম।তখন সেই নাটক শুটিং ও হয়েছিল।কিন্তু টিভিতে আর প্রচার হয়নি।এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ২০২১ সালের শেষের দিকে আবার নাটক স্ক্রিপ্ট লেলহা শুরু করলাম।এবং অনেকগুলো স্ক্রিপ্ট এর শুটিং শেষ হয়েছে।হাতে অনেক কাজ আসছে।আলহামদুল্লাহ।
প্রশ্ন-আপনার লেখা কতগুলো গান প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর-তা প্রায় ৫০টার মতো।কুমার বিশ্বজিৎ,এফ এ সুমন, কণা, ন্যান্সি, প্রতিক হাসান,আকাশ মাহমুদ, কনিকা রায় ,মনির বাউলা,আহমেদ হুমায়ুন, ইমন খান,অয়ন চাকলাদার, ঝিলিক বাবু,মাজেদুর মানিক,হ্যাপি,মীম,ডি এল বিজয়,বৃষ্টি,রাজিক,নদী,মিতা মল্লিক সহ অনেকেই আমার কথায় গেয়েছেন।
প্রশ্ন–বর্তমান কাজের খবর কি?
উত্তর-এফ এ সুমন ভাইয়ার সাথে অনেকগুলো কাজের কথা ফাইনাল হয়েছে।নিয়মিত তার সাথে কাজ হবে।আর নাটক নিয়ে ভালোই এগুচ্ছি।অনেকগুলো কাজ হাতে এসেছে।
প্রশ্ন-আপনার ভবিষ্যৎ যেন ভালো হয়।আপনার মাধ্যমে বাংলা গান প্রাণ পাক।ভালো গান শ্রোতাদের উপহার দিন এই প্রত্যাশা। ভালো থাকুন।
উত্তর-আপনিও ভালো থাকুন।

Sharing is caring!



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



More News Of This Category


বিজ্ঞাপন


প্রতিষ্ঠাতা :মোঃ মোস্তফা কামাল

প্রধান সম্পাদক : মোঃ ওমর ফারুক জালাল

সম্পাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম(আমিন মোস্তফা)

নির্বাহী সম্পাদক: এ আর হানিফ
কার্যালয় :-
৫৩ মর্ডান ম্যানশন (১২ তলা)
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০

ইমেইল:ajsaradin24@gmail.com

টেলিফোন : +8802-57160934

মোবাইল:+8801725-484563,+8801942-741920
টপ