29 July- 2021 ।। ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কোভিড প্রতিরোধে অতি জরুরী কিছু কথা

কোভিড প্রতিরোধে কার্যকর কিছু করা হবে, এমন লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। লকডাউনের নামে যেটা হচ্ছে সেটাতে কিছু কাজ হবার নয়। এমতাবস্থায় নিজের প্রতিরক্ষা নিজেই নেয়া প্রয়োজন। আমেরিকান CDC এর সর্বশেষ গাইডলাইনের আলোকে অল্প কয়েকটি পরামর্শ:

১) কোভিড প্রধানত ছড়াচ্ছে ৬ ফুট দূরত্বের মধ্যে থাকা রোগাক্রান্ত মানুষের দ্বারা। দূরত্ব বজায় রেখে, সঠিকভাবে মাস্ক পড়ে, যোগাযোগের সময়কাল কমিয়ে রোগাক্রান্ত হবার ঝুঁকির কমানো যাবে।
২) বাতাসে উড়ে কোভিড ভাইরাস ছড়াতে পারে। প্রধানত বদ্ধ, সীমিত বায়ুচলাচলের এলাকাতে শ্বাসপ্রশ্বাস, বিশেষত হাঁচিকাশির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে থাকে। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বায়ু প্রতিবন্ধকতাযুক্ত এলাকায় এই ভাইরাস দীর্ঘক্ষণ ঘুরে রোগ ছড়াতে পারে। আমাদের সবার জন্য এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের পরিস্থিতিতে (অফিস, মিটিং হল, সুপার শপ, ব্যাক্তিগত বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট) তাই সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার খুব খুব জরুরী।
৩) খোলা জায়গা যেমন পার্ক, মাঠ এসব স্থানে বায়ুপ্রবাহের কারণে ভাইরাস দ্রুত দুরে চলে যায় বা ঘনত্ব কমে যায়। তাই এসব এলাকা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। কাজেই সুযোগ থাকলে বদ্ধ এসি রুমের পরিবর্তে খেলা স্থানে মিটিং করা শ্রেয়।
৪) খেয়াল রাখতে হবে যে মাস্কের পাশ দিয়ে যেন বাতাস চলাচল না করে। Snuggly fitted masks যেমন N95, FF2 ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারলে খুব ভাল। তবে এসব মাস্ক ব্যবহার করা কষ্টকর এবং ব্যায়বহুল। যাদের জন্য এটি কষ্টকর, তারা সঠিক ভাবে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করতে পার। বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যাবার সময় আমার পরামর্শ হল একসাথে দুটো সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার কর। নাকের ওপর এবং দুই পাশে micropore (সাদা রং এর আঠাযুক্ত সার্জিক্যাল টেপ) ব্যবহার করে এটিকে এয়ার টাইট করে নিতে পারলে খুব ভাল ফল পাওয়া যাবে।
৫) সিডিসি আস্তে আস্তে বার্তা দিচ্ছে যে সারফেস কন্টামিনেশন থেকে COVID সংক্রমণ সম্পর্কে খুব বেশি চিন্তিত না হতে। সিডিসির ডাটা দেখিয়েছে যে অন্যান্য ফ্লু ভাইরাসের তুলনায় সারফেস দূষণ এবং হাতের দূষণ করোনা ভাইরাস সংক্রমণে সীমিত ভূমিকা পালন করে। কাজেই হাতে গ্লাভস পড়া তেমন জরুরী নয়। হাত ধোয়া জরুরী, তবে সঠিক ভাবে মাস্ক পরা অনেক বেশি জরুরী।
৬) ভ্যাক্সিন সম্পর্কে জানা এখনও সীমিত, তবু এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে কোভিড প্রতিরোধে ভ্যাক্সিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমার এবং চিকিৎসক বন্ধুদের পর্যবেক্ষণ এই যে একডোজ ভ্যাক্সিন পুরোপুরি নিরাপত্তা দিতে না পারলেও ভ্যাক্সিনগ্রহীতাদের মধ্যে রোগের লক্ষণের তীব্রতা কম। কাজেই ভ্যাক্সিন নিতে দ্বিধান্বিত যেন না হই।
৭) পরিবারের কারো মধ্যে কোভিডের লক্ষণ বা সন্দেহ দেখা দিলে ঘরের ভেতর নিজেদের মাস্ক পড়া এবং দূরত্ব বজায় রাখা জরুরী। মনে হচ্ছে এ বছরের ডমিনেন্ট স্ট্রেইনটি গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি ছোঁয়াচে।
সামষ্টিক প্রতিরোধের উদ্যোগ এখন পর্যন্ত খুব সীমিত, তাই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে উপরে বর্ণিত সতর্কতাগুলো মেনে চললে অনেকটাই নিরাপদ থাকা যাবে।
মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন।আমীন

সম্পাদনা:মোঃআমিনুল ইসলাম

Sharing is caring!





More News Of This Category


বিজ্ঞাপন


প্রতিষ্ঠাতা :মোঃ মোস্তফা কামাল

প্রধান সম্পাদক : মোঃ ওমর ফারুক জালাল

সম্পাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম(আমিন মোস্তফা)

নির্বাহী সম্পাদক: এ আর হানিফ
কার্যালয় :-
৫৩ মর্ডান ম্যানশন (১২ তলা)
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০

ইমেইল:ajsaradin24@gmail.com

টেলিফোন : +8802-57160934

মোবাইল:+8801725-484563,+8801942-741920
টপ