8 March- 2021 ।। ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জিয়াকে খেতাব দিয়েছিলো বঙ্গবন্ধু, তিনি তা রক্ষা করতে পারেননি’-খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

দিনাজপুর প্রতিনিধি

জিয়াউর রহমানকে বীর উত্তম খেতাব দিয়েছিলো বঙ্গবন্ধু কিন্ত তিনি তা রক্ষা করতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দিনাজপুরের বিরলে নবনির্মিত বিরল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্বোধন পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় দেয়া বীর উত্তম খেতাবের মর্যাদা জিয়াউর রহমান রাখতে পারে নাই বলেই আজকে জিয়াউর রহমানের সেই খেতাব কেড়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)’র এ সিদ্ধান্ত আমরা সমর্থন করি।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধু তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর জিয়াউর রহমান সেই মর্যাদা ধরে রাখতে পারেন নাই। জিয়াউর রহমান পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে সে হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি হত্যাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। পাশাপাশি কুখ্যাত শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন। গোলাম আজমকে ফিরিয়ে এনেছেন। আব্দুল আলীমের মতো কুখ্যাত রাজাকারকে তিনি রেলমন্ত্রী বানিয়েছিলেন।

নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করা যাবে না- যে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ মোশতাক জারি করেছিলেন। জিয়াউর রহমান সেটাকে আইনে পরিণত করেছিলেন। জিয়াউর রহমান খুনীদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। স্বাধীনতাবিরোধীদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থীতে রূপান্তরিত করার কাজে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করেছেন। জিয়াউর রহমান দালাল আইন বাতিল করে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন।

তিনি বলেন, তাই একজন ভালো মানুষও যেকোনো সময় খারাপ মানুষ হয়ে যায়। আবার কোনো খারাপ মানুষও ভালো মানুষ হয়ে যায়। সকল মুক্তিযোদ্ধা সারাজীবন মুক্তিযোদ্ধা থাকতে পারে না। কিন্তু রাজাকার সারাজীবনের জন্য রাজাকার। জিয়াউর রহমান তার মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা ভূমিকা ধরে রাখতে পারে নাই। সে খলনায়কে পরিণত হয়েছে। অনেকেই অনেক কথা বলেন। আজকে মহানায়ককে খলনায়কের সঙ্গে তুলনা করেন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিতর্কিত করা হয়েছিলো। সংবিধানের মূলনীতিকে ছেটে ফেলা হয়েছিলো। আদালতের রায়ে ৫ম সংশোধনী বাতিল করে জিয়ার শাসনামলকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ রায়ের আলোকে সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিয়ার সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করা হয়েছিলো। সেদিন খালেদা জিয়া কোনো প্রতিবাদ করে নাই।

সরকারবিরোধী বিভিন্ন অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়েও অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। অনেক অপপ্রচার হয়েছে। জাতির পিতার অবর্তমানেও মুক্তিযোদ্ধারা দিক নির্দেশনা পালন করেছেন। একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার পর মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে দেশকে হানাদারমুক্ত করেছেন। তখনো অনেক অপপ্রচার হয়েছে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের এসব অপপ্রচার বিভ্রান্ত করতে পারেনি।

নৌ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আজকেও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। মিথ্যাচার দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। আজকে ষড়যন্ত্র কেন করা হচ্ছে, কারণ তারা পদ্মাসেতু থামাতে পারেনি। আমাদের গভীর সমুদ্র বন্দর নিয়েও বহু ষড়যন্ত্র করেছে। এই জায়গায় লবিং করে, ওই জায়গায় লবিং করে। আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীকে উসকে দেয়। বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে উসকে দেয়। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানেই হাত দিচ্ছেন, সেখানেই ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের উন্নয়নকে থামাতে পারেনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে আমরা করোনাকে জয় করতে সমর্থ হয়েছি। আজকে দেশের সবার মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময় যে বাংলাদেশ, সে বাংলাদেশে একজনও মানুষও গৃহহীন থাকবে না। সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন। আমরা ২০০৮ সালে বলেছিলাম ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেবো, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বো। আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন। আমরা তা বাস্তবায়ন করেছি।

খালিদ বলেন, খালেদা জিয়া ও ড. ইউনূসের ষড়যন্ত্রে বিশ্বব্যাংক টাকা বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ হতাশ হয়ে গিয়েছিলো। আমরা মনে হয় আর পদ্মাসেতু পাবো না। দেশরত্ন শেখ হাসিনা পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলো, ‘আমরা নিজেদের টাকায় পদ্মাসেতু করবো’। আজকে পদ্মাসেতু দৃশ্যমান। বাংলাদেশে কোনো গভীর সমুদ্র বন্দর ছিলো না, আজকে ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্র বন্দর হচ্ছে। পায়রা বন্দর আজকে দৃশ্যমান। মোংলা বন্দরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জাহাজ আসছে। এভাবে সবক্ষেত্রে বাংলাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাবের মো: শোয়াইবের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন- দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আজিজুল ইমাম চৌধুরী, বিরল উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র সবুজার সিদ্দিক সাগর, সাধারণ সম্পাদক রমা কান্ত রায়।

এ সময় স্থানীয় ও আশপাশের উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নৌ প্রতিমন্ত্রী ভাষা শহীদদের স্মুতিতে ফুল দিয়ে নবনির্মিত শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।

Sharing is caring!





More News Of This Category


বিজ্ঞাপন


প্রতিষ্ঠাতা :মোঃ মোস্তফা কামাল

প্রধান সম্পাদক : মোঃ ওমর ফারুক জালাল

সম্পাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম(আমিন মোস্তফা)

নির্বাহী সম্পাদক: এ আর হানিফ
কার্যালয় :-
৫৩ মর্ডান ম্যানশন (১২ তলা)
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০

ইমেইল:ajsaradin24@gmail.com

টেলিফোন : +8802-57160934

মোবাইল:+8801725-484563,+8801942-741920
টপ