22 January- 2021 ।। ৮ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শতফুল ফুটতে দাও- ভোগান্তি আর উৎকণ্ঠার ২০২০

ড. মাহবুব উল্লাহ্

আজ ৩১ ডিসেম্বর। ৩১ ডিসেম্বরের রাত ১২টার পর শুরু হবে নতুন বছর। নতুন বছরটি আমাদের সবার জন্য, পুরো বিশ্ববাসীর জন্য কল্যাণ বয়ে আনুক এটাই হল আজকের প্রার্থনা। এবার যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিবসও পালিত হয়েছে নিষ্প্রভরূপে।

পুরো বছরটাই কেটে গেল করোনার ভয়াবহ সংক্রমণের মধ্য দিয়ে। এ রোগের সূচনা হয়েছিল গণচীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান নগরীতে। রোগটি হয়তো দেখা দিয়েছিল ২০১৯-এর শেষ দিকে। কিন্তু নানা বিভ্রান্তির কারণে রোগটিকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। কারণ এ রোগের লক্ষণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ ঠাণ্ডা লাগা কিংবা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো।

যাই হোক, গণচীনের ডাক্তাররা ডিসেম্বরের মধ্যেই এ নতুন মহামারীটি শনাক্ত করতে সক্ষম হন। তারা এর জিন রহস্যও উদঘাটন করতে সক্ষম হন। ফলে এর চিকিৎসা কিছুটা হলেও সম্ভব হয়। তারপরও কঠিন সত্যটি হল এ রোগের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। নেই কোনো নির্ধারিত ওষুধ। চিকিৎসকরা রোগের লক্ষণ দেখে দেখে সে অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে থাকেন।

যতক্ষণ পর্যন্ত এ রোগের ভাইরাস দমনকারী ওষুধ আবিষ্কার না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত রোগের লক্ষণ দেখে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। যাদের লক্ষণ বা উপসর্গগুলো হালকা থেকে মাঝারি তারা প্রাথমিক চিকিৎসাতেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু বয়োবৃদ্ধ লোকদের ক্ষেত্রে এ রোগ জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যাদের বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব তারা অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। বয়স্ক রোগী এবং যাদের দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ এবং ক্রোনিক কিডনি ডিজিস রয়েছে তারা অল্প সময়ের মধ্যেই জটিল পর্যায়ে চলে যান। এসব রোগীর ক্ষেত্রে মাল্টি অর্গান ফেইলিউর দেখা দেয়। ফলে রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে ওঠে।

হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নেয়ার পর অনেকেরই করোনা নেগেটিভ হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, মাল্টি অর্গান ফেইলিউয়ের ফলে দু-এক দিন না যেতেই এসব রোগী মৃত্যুবরণ করে।

বাংলাদেশের করোনা রোগীদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন কিছু নয়। বাংলাদেশে সরকারিভাবে প্রথম করোনা সংক্রমণ সম্পর্কে স্বীকৃতি দেয়া হয় বর্তমান বছরের ৮ মার্চ। তবে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, দেশেও এ রোগের সূচনা হয়েছিল মার্চের দু-এক মাস আগে। রোগটি যখন চিহ্নিত করা সম্ভব হল তখন দেখা গেল রোগের চিকিৎসার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এ রোগের চিকিৎসার জন্য খুবই দুর্বল।

চিকিৎসকরা রোগটি চিহ্নিত হওয়ার পর বলতে শুরু করলেন তাদের পক্ষে এ রোগের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। তারা অভিযোগ করলেন, পিপিই ছাড়া তাদের পক্ষে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। যেহেতু রোগটি অত্যন্ত সংক্রামক, সেহেতু ডাক্তারদের নিরাপত্তার জন্য পিপিই বা পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু দেশের হাসপাতালগুলো এদিক থেকে তেমন কোনো ব্যবস্থার কথা ভাবেনি।

পিপিই’র অভাবে প্রথমদিকে চিকিৎসা বিলম্বিত হয়। এছাড়া অনেক হাসপাতালে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন বিতরণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। অক্সিজেন এ রোগের চিকিৎসায় একটি অতীব প্রয়োজনীয় উপকরণ। অক্সিজেন ছাড়া রোগীর জটিলতার চিকিৎসা করা যায় না। প্রথমদিকে করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিতিকিচ্ছি পরিস্থিতির উন্মোচন ঘটে।

স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বহুদিন ধরে এক শতাংশেরও নিচে ছিল। অথচ এটি হওয়া উচিত জিডিপির ৫ শতাংশ। অপ্রতুল বরাদ্দের পাশাপাশি কিছু ব্যক্তির লাগামহীন লোভ ও দুর্নীতি বরাদ্দকৃত অর্থেরও অপচয় ঘটিয়েছে। করোনার সংক্রমণ দেখে মনে হয়েছিল আমাদের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে হবে। মৃত্যু পথযাত্রী রোগীদের নিয়ে আপনজনেরা একের পর এক বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে রোগীকে ভর্তি করাতে পারেননি। ফলে বাস্তব অবস্থাটা এমন ছিল যে চিকিৎসা ছাড়াই মৃত্যুবরণ করতে হবে।

সরকার করোনা সংক্রমণ কমিয়ে আনার জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ থাকার এক পর্যায়ে পোশাক কারখানাগুলো হঠাৎ ঘোষণা দেয়, একটি নির্দিষ্ট দিনে শ্রমিকদের কাজে যোগদান করতে হবে। ফলে শ্রমিকরা ১-২ শত মাইল হেঁটে ঢাকায় চলে আসে। পথ চলতে গিয়ে তারা ক্ষুধা ও অবসন্নতায় প্র্রায় মর মর অবস্থায় পড়ে যায়।

দু-এক দিন না যেতেই ঘোষণা করা হল পোশাক কারখানাগুলো খুলছে না। উল্লেখ্য, ওই সময় দূরপাল্লার বাস-ট্রেন বন্ধ ছিল। দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় দেশের শিল্পপতিরা শ্রমিকদের কষ্টের প্রতি ন্যূনতম সহমর্মিতা দেখাননি। পোশাক কারখানার মালিকরা বলতে শুরু করলেন অনেক ক্রেতা তাদের ক্রয়াদেশ বাতিল কিংবা স্থগিত করেছে।

এ অজুহাতে তারা বলতে শুরু করলেন, পোশাক খাত বিরাট বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে গেছে। তবে এ দাবি ঢালাওভাবে সত্য নয়। দীর্ঘদিনের নাম করা পোশাক কারখানাগুলো এতদিনে মুনাফার যে সঞ্চিতি ঘটিয়েছে তা দিয়ে চলমান বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব ছিল না। তাদের সরকার প্রণোদনা হিসেবে অতি স্বল্প সুদে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

সরকার এ অর্থ দিয়েছে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করার জন্য। বিশ্বের খুব কমসংখ্যক দেশই আছে যেগুলো করোনা সংক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বাংলাদেশে যখন শিল্পকারখানা বন্ধ করে দিতে হয়েছিল তখন উন্নত দেশেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। সেসব দেশ আসন্ন মন্দার কথা ভেবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।

করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের হল, হোস্টেল ত্যাগ করতে নির্দেশ দেয়া হয়। ফলে লেখাপড়ার বিরাট ক্ষতি হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কোথাও পাঠদান করা হয়নি। এর মধ্যে কিছু ব্যতিক্রম হল হাতেগোনা কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে পাঠদান করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তুলনামূলকভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক অবস্থা ভালো থাকার ফলে অনলাইনে ক্লাস নেয়া সম্ভব হয়। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে আমরা একটি ভিন্ন চিত্র দেখতে পাই। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র খুবই গরিব।

এরা টিউশনি করে তাদের লেখাপড়ার খরচ চালায় এবং সম্ভব হলে গ্রামে থাকা তাদের গরিব বাবা-মায়ের জন্য কিছু টাকাও পাঠায়। এ তো গেল শিক্ষার্থীদের অবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষক এখনও অনলাইনে পাঠদানের জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত নন। অর্থাভাবে শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার কিনতে পারে না, অন্যদিকে অনেক শিক্ষক আছেন যারা অনলাইনে পাঠ দিতে এখনও প্রস্তুত নন।

প্রশ্ন উঠেছে, এই যখন অবস্থা তখন অনলাইনকে বিদ্যমান পাঠদান ব্যবস্থার বিকল্প কীভাবে ভাবা যায়। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা আমরা ২০০৮ থেকে শুনছি। কিন্তু এ লক্ষ্য অর্জনে গত ১২ বছরে সুপরিকল্পিতভাবে কোনো পদক্ষেপ যে নেয়া হয়নি, পরিস্থিতি তাই বলে।

করোনা সংক্রমণের ফলে অনেক কর্মজীবী মানুষ কর্মচ্যুত হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে মজুরি কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এরা বুঝতে পারছে তাদের পক্ষে ঢাকার মতো শহরে থাকা সম্ভব নয়। অনেকেই ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে গ্রামে ফিরে গেছেন। বাংলাদেশের কৃষি এখনও কর্মক্ষম মানুষদের জন্য কাজের প্রধান উৎস।

জিডিপিতে কৃষির অবদান তুলনামূলকভাবে কমে এলেও এ খাতের অবদান মোট হিসাবে কমেনি, বরং বৃদ্ধি পেয়েছে। নানা কারণে প্রতি বছরই চাষযোগ্য জমি কমলেও কৃষি উৎপাদন কমেনি। করোনার অভিজ্ঞতা আমাদের বলে- কৃষি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রাণশক্তির উৎস। এ কারণেই কৃষিতে আমাদের অনেক মনোযোগ দিতে হবে।

২০২০ সালে ভয়ানকভাবে পাপাচারের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এর প্রমাণ বলগাহীনভাবে ধর্ষণের মতো পাপাচার বৃদ্ধি। এ ধরনের অপরাধ কেন সংঘটিত হয় তা নিয়ে গভীর গবেষণার প্রয়োজন আছে। এ দেশের মানুষ এত খারাপ কখনও ছিল না। এ ধরনের অপরাধ একসময় ব্যতিক্রমধর্মী আচরণ ছিল। এখন মনে হচ্ছে এ ধরনের আচরণই স্বাভাবিক।

ধর্ষণের কবল থেকে শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং পূর্ণ বয়স্ক নারী কেউই রক্ষা পাচ্ছে না। সম্প্রতি সরকার প্রাণদণ্ডের বিধান সংবলিত একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে। কিন্তু অনেকেই মনে করেন নিছক প্রাণদণ্ড দ্বারা এ ঘৃণ্য অপরাধ সমাজদেহ থেকে নির্মূল করা সম্ভব নয়। যৌন ক্ষুধা মানুষের তিনটি সহজাত প্রবৃত্তির একটি।

আজকের এ মুহূর্তে বাংলাদেশে কী করে এ ধরনের ঘৃণ্য পাপাচার স্ফীত হচ্ছে তার কারণ বোঝা কঠিন। সে জন্যই ধর্ষিতা ও ধর্ষণকারীদের সম্পর্কে গবেষণা করে আমাদের সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। ২৯ ডিসেম্বরের সংবাদপত্র থেকে জানা যায়, করোনাকালে ১১ মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিহত করার জন্য ১৮ হাজার মামলা হয়েছে।

বাংলাদেশ হবে ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। ২০৩৫ সালে বাংলাদেশের জিডিপি হবে ১২ শত ৩ বিলিয়ন ডলার। এ পূর্বাভাস পাওয়া গেছে ব্রিটিশ অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর) থেকে। পূর্বাভাস সম্পর্কে সংস্থাটি বলছে, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনেক ওলটপালট ঘটে গেছে।

ইউরোপ-আমেরিকার বেশিরভাগ বড় অর্থনীতির দেশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর বিপরীতে চীন খুব কৌশলে করোনা দ্রুত এবং কঠোরভাবে মোকাবেলার কারণে সামনের বছরগুলোতে পৌঁছে যাবে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে। আর চীনের মতো একইভাবে বাংলাদেশও যেহেতু করোনাভাইরাসের মধ্যেও কিছুটা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে, তাই সামনের বছরগুলোতে বাংলাদেশে ধারাবাহিক এবং জোরালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আশা করছে সিইবিআর।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মারা গেছে ৭ হাজারের কিছু বেশি লোক। প্রতি ১ লাখে মাত্র ৪ জন। যদিও এ মহামারীর কারণে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ছিল সীমিত, তা সত্ত্বেও অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে এটি। কারণ মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রফতানি পণ্যের চাহিদা গিয়েছিল কমে, আর আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইনও হয়ে পড়েছিল বিপর্যস্ত।

তবে অন্য অনেক দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলেও বাংলাদেশ তা এড়াতে পেরেছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৮ শতাংশ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮.২ শতাংশ। সিইবিআরের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ঘটবে গড়ে ৬.৮ শতাংশ হারে।

তবে এর পরের ১০ বছরে এ হার কিছু কমে গড়ে ৬.৫ শতাংশ হবে। আবার ২০২০ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি হবে উল্লেখযোগ্য। এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি আছে ৪১ নম্বরে। কিন্তু ২০৩৫ সালে বাংলাদেশ হবে ২৫তম অর্থনৈতিক শক্তি।

সিইবিআরের মতো আমি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে এতটা আশাবাদী হতে পারছি না। জিডিপির হিসাব করা হয় দু’রকমভাবে। এর একটি হল স্থির মূল্যে এবং অপরটি হল চলতি মূল্যে। দেশে যখন মেগা প্রজেক্ট হয় তখন এগুলোতে জবহঃ বা দুর্নীতিজনিত খাজনা বড় একটা জায়গা দখল করে নেয়। এর প্রভাব পড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারের ওপর। যদি এ ধরনের জবহঃমুক্ত হিসাব-নিকাশ করা যেত, তাহলে আমরা প্রকৃত চিত্র দেখতে পেতাম।

সম্প্রতি ৪২ বিশিষ্ট নাগরিক বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে খুবই নেতিবাচক একটি চিঠি লিখে রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেছে। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা থেকেই এ ধরনের বিবৃতির উৎপত্তি। নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নমুক্ত করতে না পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সহায়ক উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের ইতিহাস কী বলে? ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র নামে উদ্ভট ধরনের এক গণতন্ত্র চালু করেছিলেন।

তিনি ১০ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার ক্ষমতা ছিল অপরিসীম। কিন্তু জনগণ ছিল সম্পূর্ণ ক্ষমতাহীন। নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে জনগণকে প্রান্তিক অবস্থায় ঠেলে দেয়া হয়েছিল। এরই পরিণতিতে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। বর্তমানে আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থাকে কালিমামুক্ত করতে না পারলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ সম্পর্কে আমরা কতটুকু আশাবাদী হতে পারি?

ড. মাহবুব উল্লাহ : শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ

Sharing is caring!





More News Of This Category


বিজ্ঞাপন


প্রতিষ্ঠাতা :মোঃ মোস্তফা কামাল

প্রধান সম্পাদক : মোঃ ওমর ফারুক জালাল

সম্পাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম(আমিন মোস্তফা)

নির্বাহী সম্পাদক: এ আর হানিফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শেখ মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ
কার্যালয় :-
৫৩ মর্ডান ম্যানশন (১২ তলা)
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০

ইমেইল:ajsaradin24@gmail.com

টেলিফোন : +8802-57160934
টপ