22 January- 2021 ।। ৮ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পানি একটি অনন্য ও অসাধারণ নেয়ামত

ইন্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম

পানি আর প্রাণ প্রায় সমার্থক বলেই বলা হয় পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া যে কোনো জীবের অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায়না। প্রাণীর প্রাণ রক্ষায় পানির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সুতরাং আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টিসমূহের মধ্যে পানি একটি অনন্য ও অসাধারণ নেয়ামত এতে কোনো রকম সন্দেহের অবকাশ নেই।

মহান সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছেন। বিশ্বের অনেক নামকরা বিজ্ঞানী সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের প্রমাণ করেছেন এবং বিশ্বাস করেছেন, এই যে বিশাল বিশ্বব্রহ্মাণ্ড যা কল্পনাতীত, শুধু কেবলমাত্র সেটাই নয় একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাও আপনাআপনি সৃষ্টি হতে পারেনা। সেই সৃষ্টির পেছনে কারো না কারো পরিকল্পনা রয়েছে এবং সৃষ্টি কুশলতা রয়েছে। আধুনিক যুগে বিজ্ঞানীরা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির যে রহস্য উন্মোচন করেছেন আল্লাহ তায়ালা কুরআন মজিদে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে একজন নিরক্ষর রাসুলের স. মাধ্যমে তা মানব জাতিকে জানিয়ে দিয়েছেন।

ইরশাদ হচ্ছেঃ “এরা কি দেখেনা, আসমানসমূহ ও পৃথিবী ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে মিশে ছিলো। অতপর আমিই এদের উভয়কে এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে আলাদা করে দিয়েছি এবং আমি প্রাণবান সবকিছুকেই পানি থেকে সৃষ্টি করেছি। তারা কী ঈমান আনবেনা? আমি জমিনের উপর সুদৃঢ় পাহাড়সমূহ গেঢ়ে দিয়েছি যেনো তা ওদের নিয়ে এদিক সেদিক নাড়াচাড়া করতে না পারে। এছাড়াও আমি তাতে প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করে দিয়েছি যাতে করে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। আমি আকাশকে একটা সুরক্ষিত ছাদ হিসেবে তৈরি করেছি। কিন্তু, এ নির্বোধ লোকেরা এসব নিদর্শন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আল্লাহ তায়ালাই রাত, দিন, সূর্য ও চন্দ্রকে সৃষ্টি করেছেন। এদের প্রত্যেকেই কক্ষপথে সাঁতার কেটে যাচ্ছে।”

সূরা আল আম্বিয়া। আয়াতঃ ৩০-৩৩।

এরপর আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টির রহস্য এবং পানি সৃষ্টির ও পানি চক্রের রহস্যের দ্বার উন্মোচিত করে বলছেন এভাবেঃ “(হে মানুষ তোমার সৃষ্টি প্রক্রিয়াটা লক্ষ করো) আমি মানুষকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।অতপর তাকে আমি শুক্রকীট হিসেবে একটি সংরক্ষিত জায়গায় রেখে দিয়েছি। এরপর এ শুক্রবিন্দুকে আমি এক ফোঁটা জমাট রক্তে পরিণত করি, অতপর এ জমাট রক্তকে মাংসপিণ্ডে পরিণত করি, এ পিণ্ডকে অস্থিপাঁজরে পরিণত করি, তারপর এ অস্থি পাঁজরকে আমি গোশতের পোশাক পরিয়ে দেই, অতপর তাকে আমি ভিন্ন এক সৃষ্টি (পূর্ণঙ্গ মানুষ) রূপে পয়দা করি। আল্লাহ তায়ালা কতো উত্তম ও নিপুণ সৃষ্টিকর্তা! এরপর আবার তোমারা মৃত হয়ে যাও। এরপর কেয়ামতের দিন তোমরা পুণরুত্থিত হবে। আমিই তোমাদের ওপর এ সাত আসমান বানিয়েছি এবং আমি আমার সৃষ্টি সম্পর্কে মোটেই উদাসীন নই। আমিই আসমান থেকে পরিমাণ মতো পানি বর্ষণ করেছি এবং তাকে জমিনে সংরক্ষণ করে রেখেছি। আবার এক সময় তাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবার ব্যাপারেও আমি সম্পূর্ণ ক্ষমতাবান। তারপর সেই পানি দিয়ে তোমাদের জন্য খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান সৃষ্টি করি। তোমাদের জন্য তাতে প্রচুর ফল উৎপাদিত হয়, আর তা থেকে তোমারা আহার করো।”

সূরা আল মোমেনুন। আয়াতঃ১২-১৯।

আল্লাহ তায়ালার এতোসব নিয়ামত পাবার পরও বহু মানুষ আছে যারা আল্লাহ তায়ালাকে এবং তাঁর সৃষ্টি কুশলতা ও যাবতীয় নেয়ামত অস্বীকার করে। তাদের অকৃতজ্ঞতার জন্যই পৃথিবীতে সময়ে সময়ে আল্লাহ তায়ালা আজাব দিয়ে থাকেন। যাতে অবিশ্বাসীদের সম্বিত ফিরে আসে এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হয়ে যায়। আজকের করোনা ভাইরাস মহামারিও তেমনি একটি আসমানী আজাব।

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “মানুষের কৃতকর্মের দরুন পৃথিবীতে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাদের কতিপয় কাজকর্মের দরুন তাদের শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাতে চান, সম্ভবত তারা ফিরে আসবে।”

সূরা আর রোম। আয়াতঃ৪১।

পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া মানুষের জীবন অচল। পৃথিবীতে পানি না থাকলে একটি প্রাণীও জীবিত থাকতে পারতোনা। আল্লাহ তায়ালা বাতাসের অক্সিজেন আর জমিনের পানি দিয়ে মানুষ সহ সকল প্রাণীর জীবন রক্ষা করেছেন। কিন্তু মানুষ এতোটাই অকৃতজ্ঞ এবং অবিশ্বাসীরা তো কৃতঘ্নও বটে! এসব কৃতঘ্নতা আর অকৃতজ্ঞতার জন্যই আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিয়মত সংকুচিত করে দিচ্ছেন।

ইরশাদ হচ্ছেঃ “যদি তিনি তোমাদের জীবিকা সরবরাহ বন্ধ করে দেন, তাহলে এমন আর কে আছে, যে তোমাদের রিজিক সরবরাহ করতে পারবে? এরা তো বরং বিদ্রোহ এবং গোঁড়ামিতেই রয়েছে। যে ব্যক্তি জমিনের ওপর উপুড় হয়ে মুখ ভর দিয়ে চলে সে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে হেদায়েতপ্রাপ্ত, নাকি যে ব্যক্তি সঠিক পথ ধরে চলে সে হেদায়েতপ্রাপ্ত? (হে নবী,) তুমি এদের বলে দাও, তিনিই তোমাদের পয়দা করেছেন, তিনিই তোমাদের চোখ ও কান দিয়েছেন, আরো দিয়েছেন চিন্তা করার জন্য একটি অন্তকরণ। কিন্তু, তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা আদায় করো। বলো, তিনিই তোমাদের এভূখণ্ডে ছড়িয়ে রেখেছেন। আবার একদিন তাঁরই সম্মুখে তোমাদের সবাইকে জড়ো করা হবে।”

সূরা আল মুলক। আয়াতঃ২১-২৪।

প্রকৃতপক্ষে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালাই মানুষের রিজিকদাতা এর সাথে জীবনের অপর নাম পানিও তিনি সরবরাহ করে থাকেন। এখন মাটির নিচে পানির স্তর আস্তে আস্তে তলিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা যদি পানি স্তর বিলুপ্ত করে দেন তাহলে তা ফিরিয়ে আনতে কেউই সক্ষম হবেনা।

ইরশাদ হচ্ছেঃ এদেরকে বলো, তোমরা কি এ বিষয়ে কখনো কোনো রকম চিন্তা ভাবনা করে দেখেছো, যদি তোমাদের কুয়াগুলোর পানি মাটির গভীরে নেমে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদের সেই পানির প্রবাহমান স্রোতধারা পুনরায় ফিরিয়ে এনে দেবে?”

সূরা আল মুলক। আয়াতঃ৩০।

সুতরাং, আল্লাহ তায়ালার সকল প্রকার নেয়ামতের শোকর আদায় করা মানব জাতির কর্তব্য। তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাঁর নেয়ামতরাজি আরো বৃদ্ধি করে দেবেন। আর কৃতজ্ঞতা স্বীকার না করলে ভয়াবহ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

ইরশাদ হচ্ছেঃ “স্মরণ করো, যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, যদি তোমরা আমার নেয়ামতের শোকর আদায় করো তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য নেয়ামত আরো বাড়িয়ে দেবো, আর যদি তোমরা অস্বীকার করো তাহলে যেনে রাখো আমার আজাব অত্যন্ত কঠিন।”

সূরা ইবরাহীম। আয়াতঃ৭।

অতএব দুনিয়ার শান্তি, শৃঙ্খলা, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার প্রয়োজনে মহান সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা অপরিহার্য।

ইন্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম


লেখকঃকলাম লেখক, সমাজ সেবক,

Sharing is caring!





More News Of This Category


বিজ্ঞাপন


প্রতিষ্ঠাতা :মোঃ মোস্তফা কামাল

প্রধান সম্পাদক : মোঃ ওমর ফারুক জালাল

সম্পাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম(আমিন মোস্তফা)

নির্বাহী সম্পাদক: এ আর হানিফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: শেখ মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ
কার্যালয় :-
৫৩ মর্ডান ম্যানশন (১২ তলা)
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০

ইমেইল:ajsaradin24@gmail.com

টেলিফোন : +8802-57160934
টপ