18 October- 2020 ।। ২রা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব শিক্ষক দিবস ও কিছু কথা

ওমর ফারুক জালাল

প্রতি বছর আজকের এই দিনটি বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়।আমরা চাই আমাদের প্রজন্ম প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হোক।
মানুষ গড়ার নিপুণ কারিগর শিক্ষক। মা-বাবা জন্ম দেওয়ার পর মূলত শিক্ষকের হাতেই গড়ে উঠে সন্তান। ছাত্রকে মানুষ করার জন্য শিক্ষকের চেষ্টার অন্ত থাকে না। এই মহামারি করোনাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের এ সময়ে শত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শিক্ষকরা অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠ পৌঁছে দিচ্ছেন। প্রাথমিকের শিক্ষকগণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক মোবাইলে কিংবা প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গমন করে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার খুঁজ খবর রাখছেন। দিচ্ছেন নানা পরামর্শ। পিছিয়ে নেই মাধ্যমিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। তারাও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনযোগী রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। একজন শিক্ষক কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে তার দায়িত্বে অবহেলা করেন না বলেই বিশ্বাস করি। যদিও গুটিকয়েক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে নানা সময়। কিন্তু তারা বিশাল শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন না অবশ্যই।

প্রতি বছর ৫ অক্টোবর সারাবিশ্বে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ পালন করা হয়। এদিন শিক্ষকদের অবদানের কথা তুলে ধরা হয় বিভিন্ন সেমিনার, সেমপজিয়ামে। পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক দেশেই শিক্ষকের সম্মান রয়েছে। রয়েছে তাদের জন্য পর্যাপ্ত সম্মানী, নিরাপত্তা ও আবাসনের সুব্যবস্থা। আমাদের দেশে সুবিধা বাড়লেও এখনো পর্যন্ত শিক্ষকগণ সেভাবে কাঙ্ক্ষিত সম্মানী ও অন্যান্য সুবিধাদি পান না। আমি মনে করি উপযুক্ত সম্মান ও সম্মানী পাওয়া শিক্ষকদের অধিকার। এক্ষেত্রে বৈষম্য থেকে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় এই বৈষম্যসহ নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে শিক্ষকগণ রাস্তায়ও নামেন। সরব থাকেন প্রতিবাদ, বিক্ষোভ করেন। সরকারকে শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে ভাবার অনুরোধ জানাই। শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ কখনো অস্বীকার করেন না ঠিকই কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপও তেমন নিতে দেখা যায়না।

দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাতে লাখো শিক্ষক শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। তারা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করে যাচ্ছেন। আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাদের মানুষ করার জন্য। এরপরও নানা সময় শিক্ষকরা বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হোন। সম্মুখীন হোন নানা প্রতিকূলতার। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিশেদগার করেন সমাজের কিছু দুষ্টু লোক। তবে তারা সংখ্যায় অতি নগণ্য।

মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সেই ‘শিক্ষকের মর্যাদা’ দেওয়ার ঘটনাটি আমরা সবাই জানি। এই সম্পর্কিত একটি কবিতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাংলা পাঠ্যপুস্তকে রয়েছে। সম্রাট তার পুত্রের শিক্ষককে যেভাবে মর্যাদা দিয়েছিলেন সে ধরনের মর্যাদা কি এখন আছে? বাদশাহ পুত্র পায়ে পানি ঢালছেন আর এটিকে অপরাধ মনে করেছিলেন শিক্ষক। কিন্তু সম্রাট অবাক করে দিয়ে শিক্ষককে দিলেন সম্মান। বললেন,পুত্র কেন শিক্ষকের পায়ে শুধু পানি ঢালবে। পুত্রের উচিৎ পানি ঢালার পাশাপাশি হাত দিয়ে ধুয়ে দেওয়া।

ওমর ফারুক জালাল


লেখকঃকলামিষ্ট,প্রধান সম্পাদক,আজ সারাদিন।

Sharing is caring!



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



More News Of This Category


বিজ্ঞাপন


প্রতিষ্ঠাতা : মোঃ মোস্তফা কামাল
প্রধান সম্পাদক : মোঃ ওমর ফারুক জালাল
সম্পাদক : মোঃ আমিনুল ইসলাম(আমিন মোস্তফা)
নির্বাহী সম্পাদক : এ আর হানিফ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শেখ মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ
কার্যালয় :-
৫৩ মর্ডান ম্যানশন (১২ তলা)
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ইমেইল : ajsaradin24@gmail.com
টেলিফোন : +8802-57160934
মোবাইল: 01725-484563,01942-741920
টপ