21 October- 2020 ।। ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সিংগাপুর নাইট সাফারি

একেএম আবুল কালাম আজাদ
সমুদ্রবেষ্টিত ক্ষুদ্র একটা দ্বীপরাষ্ট্র, নাম তার সিংগাপুর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশটি মালয় উপদ্বীপের নিকটে অবস্থিত। ছোট্ট এ দেশটি আমাদের ঢাকা মহানগর (৮৩৪ বর্গ মাইল) এর চেয়ে আয়তনে ছোট হবে যার আয়তন মাত্র ২৭৮ বর্গ মাইল। অথচ কতটা সাজানোগুছানো একটি পূর্ন নগররাষ্ট্র। একমাত্র সমুদ্র ছাড়া এখানের প্রায় সবকিছুই কৃত্রিম। পৃথিবীর যেখানে যা কিছু ভালো আছে তার কপিপেস্ট বলা যায়। ‘পুর’ মানে নগর। কোন লোকালয়ের নামের সঙ্গে ‘পুর’ যুক্ত হলে বিস্তৃত হয় তাৎপর্য। যেমন:-গাজীপুর, ফরিদপুর পিরোজপুর, দিনাজপুর ইত্যাদি। তেমনি সিঙ্গাপুরও একটি নগররাষ্ট্র। নামটা ছিল আসলে সিংহপুর। এরা ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারে না বলে সিঙ্গাপুর এর মতো শোনায়। ‘সিঙ্গাপুর’ নামটি এসেছে মালয় ভাষার ‘সিঙ্গাপুরা’ থেকে। আবার ‘সিঙ্গাপুরা’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ভাষা ‘সিঁহাপুরা’ থেকে, যার বাংলা অনুবাদ ‘সিংহপুর’। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের স্টাডি ট্যুর কাম প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুরের ডাক বিভাগের কার্যক্রম দেখার অংশ হিসেবে প্রথমবার সিঙ্গাপুর সরকারি সফরে যাওয়ার সুযোগ এসেছিলো ২০১০ সালে। এরপর ব্যাক্তিগতভাবেও বেড়াতে যাবার সুযোগ হয়েছিলো।

ভালো ও চমৎকার কিছু বানিয়ে ফেলতে সিংগাপুরিদের মোটেও উৎসাহে ভাটা পড়ে না। সেরকম দারুন কিছুর পেছনে দিনরাত সে কি আন্তরিক যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ, স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না, হোক তা ইটপাথরের ইমারত, সবুজ বন বা তৃণভূমি। তেমনি সিংগাপুরের মানবসৃষ্ট একটি অসাধারণ পার্ক ‘নাইট সাফারি’। সিঙ্গাপুরের ‘নাইট সাফারি, পৃথিবীর প্রথম ও একমাত্র নাইট সাফারি। সিংগাপুর ভ্রমণের আগেই নাইট সাফারি পার্ক সম্মন্ধে জানা ছিলো। তাছাড়া পার্কের প্রতি আমার দূর্বলতা তো আছেই। জাপানে থাকাকালীন টোকিও ও এর আশেপাশের প্রিফেকচারসমূহের অনেক পার্ক দেখার সুযোগ করে নিয়েছি। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে পোষ্টিংকালে কক্সবাজার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক প্রকল্পটির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলাম। প্রায় ৬ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি পার্কটির যাবতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, অনুমোদন ও বাস্তবায়ন তদারকী কাজে। কাজেই সাফারি পার্কের নাম শুনলেই মনটা ঝটপট করে। আমরা গিয়েছিলাম সরকারি কর্মকতাদের একটি দল একসঙ্গে। একেকজনের একেক দিকে ঘুরতে আগ্রহ। কেনাকাটা করতে গিয়ে কেউ যায় ইলেকট্রনিকস দোকানে, কেউ জামাকাপড়, কেউ ঢু মারে প্রসাধনীর দোকানে। শহরের প্রাণকেন্দ্র অরচার্ড পয়েন্টে ব্র্যান্ড দোকানগুলোয় ভালো জিনিস পাওয়া যায়। অনেকের কেনাকাটার পর্ব হয়তো চায়না টাউন, ধোবি ঘাট বা লিটল ইন্ডিয়ায়। তবে বাংলাদেশিদের প্রধান আকর্ষণ ‘মোস্তফা সেন্টার’। সবাই মনে হলো ২৪ ঘন্টাই এখানে থাকতে ভালোবাসে। সিংগাপুর ভ্রমণকালে আমি ছাড়া বাকী প্রায় ৬ জনের কেউই নাইট সাফারি পার্ক দেখতে যেতে আগ্রহী ছিলোনা। আমার পিরাপিডিতে একজন যুগ্মসচিব স্যার যিনি আমাদের টীম লীডার, রাজী হলেন পার্কটি ভ্রমণের সময় দিতে। তিনি যদিও কয়েকবছর আগে সিংগাপুরে বাংলাদেশ দুতাবাসে দীর্ঘদিন পোষ্টিংয়ে ছিলেন তাই পার্কটি তার আগেই দেখা ছিলো। তার আন্তরিকতায় নাইট সাফারি ভ্রমণের সময়সূচী নির্ধারণ হলো এবং অবশেষে একদিন সন্ধ্যায় আয়োজন করে নাইট সাফারি পার্কটি ভ্রমণে গেলাম। শহরের পশ্চিম প্রান্তে কৃত্রিম বন তৈরী করে পার্কটি সাজানো হয়েছে। টিকেট কেটে পার্কের ভিতরে প্রবেশ করার পরে এখানে আসা পর্যটকদের ট্রামে চড়িয়ে পার্কে ঘোরানো হয়। ট্রামে চড়ার জন্য টিকেট কাটতে হয়। বাঘ, হাতি, সিংহ, খরগোশ, ভালুক, হাইব্রিড বিশাল সাইজের ইঁদুর, হরিণ, উট, কুমির, জেব্রা ইত্যাদি এ সাফারির প্রাণিদের মধ্যে অন্যতম। এ সাফারীতে পশুপাখিরা উন্মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায়। রাতের আঁধারে নানান পশুপাখিদের মাঝ দিয়ে ট্রামে করে বনের ভিতরে বিচরণ করে দেখার মধ্যে একধরনের গা-ছমছমে অনুভূতি কাজ করে। ছোট বাচ্চাদের দেখে বেশ মজা পায় বলে মনে হয়, তবে বড়রাও কম মজা পায় না।

চিডিয়াখালা ও সাফারি পার্কের মধ্যে ব্যাসিক পার্থক্য হলো চিড়িয়াখানায় পশুপাখি খাচায় আটকা থাকে ও মানুষ উন্মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায় কিন্তু সাফারি পার্কে মানুষ ট্রাম বা গাডীতে আটকা থাকে ও পশুপাখিরা উন্মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায়।

আমাদের বাংলাদেশে নাইট সাফারি নেই কিন্তু আমাদের আছে গাজীপুরে ও কক্সবাজারে বঙ্গবন্ধু ডে-সাফারি। কাজেই এ দুটি সাফারি পার্কের যেকোন একটি যেমন গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কটিকে নাইট সাফারি পার্ক হিসাবে তৈরি করা যেতে পারে। প্রকল্প তৈরী পরিকল্পনা শুরু করলে বাংলাদেশ আগামী কয়েক বছরের মধ্য গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ককে নাইট সাফারি পার্ক হিসাবে তৈরি করা যেতেই পারে। আর তা হলে সিংগাপুরের নাইট সাফারি পার্কের চেয়েও অধিক আকর্ষণীয় করে করা সম্ভব হবে।
সূত্রঃ সরেজমিন পরিদর্শন ও ওয়েবসাইট

Sharing is caring!





More News Of This Category


বিজ্ঞাপন


প্রতিষ্ঠাতা : মোঃ মোস্তফা কামাল
প্রধান সম্পাদক : মোঃ ওমর ফারুক জালাল
সম্পাদক : মোঃ আমিনুল ইসলাম(আমিন মোস্তফা)
নির্বাহী সম্পাদক : এ আর হানিফ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শেখ মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ
কার্যালয় :-
৫৩ মর্ডান ম্যানশন (১২ তলা)
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ইমেইল : ajsaradin24@gmail.com
টেলিফোন : +8802-57160934
মোবাইল: 01725-484563,01942-741920
টপ