18 October- 2020 ।। ৩রা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শামুকখোল পাখিদের ভালোবাসার আশ্রয়স্থল রামনগর

বগুড়া প্রতিনিধি : বাংলাদেশে বিলুপ্তপ্রায় শামুকখোল পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত বগুড়ার শেরপুরের রামনগর গ্রাম। পাখির বিচরণে অন্যরকম আনন্দ পাচ্ছেন এলাকাবাসী। দূর-দূরান্ত থেকে পাখিপ্রেমী মানুষ আসছেন এসব পাখিগুলো দেখতে।

উপজেলার রামনগর গ্রামের নদী, খাল-বিল বা ধানক্ষেতে দেখা মিলছে দৃষ্টিনন্দন এই শামুকখোল পাখির। দল বেঁধে পাখিরা খাবার খুঁজছে। মানুষের সাড়াশব্দ পেলেই তারা ডানা মেলে উড়াল দিচ্ছে। উড়ে চলা এখানকার প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। এ পাখিটির গত কয়েক বছর ধরে এ এলাকায় বিচরণ মানুষকেও মুগ্ধ করছে।

শামুকখোল সারসজাতীয় পাখি। ভারী, লম্বা ঠোঁট। ধূসর সাদা রঙের দৃষ্টিনন্দন পাখি। দেখতে অনেকটা বক পাখির মত। শামুকখোল পাখি শামুক খেতে খুব ভালোবাসে। শামুক পেলে ঠোঁট দিয়ে শামুকের খোল ভাঙে, তারপর সেটা ওপরে তুলে আকাশের দিকে মুখ করে গিলে ফেলে। এ জন্য এর নাম শামুকখোল।

পাখিগুলো দেখতে বেশ বড়। গলা ও পা লম্বা। গায়ের রং সাদার সঙ্গে কালোও হয়। শামুকখোল পাখি বড় আকারের জলচর পাখি। সাধারণত বাংলাদেশে এশীয় শামুকখোল পাখির বিচরণ দেখা যায়।

বন ও পরিবেশ অধিদফতর পাখিদের রক্ষায় রামনগরে পাখি শিকার নিষিদ্ধ করে ওই এলাকায় বিলবোর্ড লাগিয়েছে। শামুকখোল ওই এলাকায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি গাছে বাসা বেঁধেছে।

করতোয়া নদীর পাশ দিয়ে রামনগর গ্রাম হওয়ায় ওই এলাকায় শামুকখোল পাখিদের খাদ্য আহরণ করা অনেক সহজ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেরপুর উপজেলা করতোয়া নদীসহ বেশ কিছু বিলে সারা বছর পানি থাকে। উপজেলার রামনগরের বিভিন্ন গাছপালায় আশ্রয় নিয়েছে এসব অসংখ্য পাখি। গ্রীষ্মকালে পাখিগুলো বিভিন্ন গাছে আশ্রয় নিয়ে থাকে। এই ছয় মাস পাখিগুলো ডিম দেয়, বাচ্চা ফুটিয়ে আবারো শীত আসার আগেই চলে যায়। কোনো কোনো পাখি আবার থেকেও যায়।

এলাকাবাসী জানান, পাখির কলকাকলিতে ঘুম ভাঙে তাদের। ভোরের আলোয় পাখিগুলো বিভিন্ন এলাকায় চলে যায় খাবারের সন্ধানে। খাবার সংগ্রহ করে আবার ফিরে আসে। ডালে ডালে কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত গ্রাম। গ্রামের বিভিন্ন গাছে আশ্রয় নিয়ে বাসা তৈরি করেছে। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে লোকজন পাখি দেখতে আসেন।

শীতের শেষে পাখিগুলো প্রতিবছরই আসে। নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে হাজার হাজার পাখির আগমন ঘটে এই গ্রামে। প্রতিবছরই পাখির সংখ্যা বাড়ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা।

গ্রীষ্মকালের ছয় মাস পাখিগুলো বাচ্চা ফুটানোর পর বাচ্চাগুলো নিয়ে শীতের সময় অজানার পথে পাড়ি দোয়। কোথায় থেকে এত পাখি আসে আর কোথায় চলে যায়, তা কেউ বলতে পারে না। ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ওই গ্রামটিকে পাখিগুলো তাদের ভালোবাসার আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তুলেছে।

Sharing is caring!



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



More News Of This Category


বিজ্ঞাপন


প্রতিষ্ঠাতা : মোঃ মোস্তফা কামাল
প্রধান সম্পাদক : মোঃ ওমর ফারুক জালাল
সম্পাদক : মোঃ আমিনুল ইসলাম(আমিন মোস্তফা)
নির্বাহী সম্পাদক : এ আর হানিফ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শেখ মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ
কার্যালয় :-
৫৩ মর্ডান ম্যানশন (১২ তলা)
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ইমেইল : ajsaradin24@gmail.com
টেলিফোন : +8802-57160934
মোবাইল: 01725-484563,01942-741920
টপ