19 October- 2020 ।। ৩রা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এখনও চালু হয়নি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, উৎকন্ঠায় এমপ্লয়িরা।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
সরকার ঘোষিত লকডাউন শেষ হওয়ার পরও
চট্টগ্রামের পটিয়ার কোলাগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ ও নৌযান নির্মাণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড এখনও চালু হয়নি।
এ নিয়ে উৎকন্ঠায় দিন পার করছেন এমপ্লয়িরা।
পদবী ভেদে পাঁচ থেকে নয় মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া থাকায় বিগত লকডাউন সময়টাতে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
গত ২৬ মার্চ লকডাউন শুরু হওয়ার আগ থেকেই বকেয়া থাকা বেতন থেকে, এক মাসের বেতন পরিশোধ করার কথা থাকলেও, তা পরিশোধ না করে শিপইয়ার্ড কতৃপক্ষ অনির্দিষ্ট কালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করেন। এবং ৩১ শে মার্চের মধ্যে একটি বকেয়া বেতন পরিশোধ করার আশ্বাস প্রদান করেন।
৩১ শে মার্চ পাড় হয়ে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত কোন প্রকার বকেয়া পরিশোধতো করেইনি, এমনকি এমপ্লয়িদের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ পর্যন্ত বন্ধ করে দেয় কতৃপক্ষ।

এমতাবস্থায় বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে, শ্রমিক পক্ষ গত ১৮ই এপ্রিল শিপইয়ার্ডের মূল গেটে, পাঁচ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব ফারহানা জাহান উপমা শিপইয়ার্ড কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তখন সংবাদকর্মীরাও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জনাব সাইফুল ইসলাম ও ডিএমডি জনাব আব্দুল মোবিন’র নাম্বারে কল করলে কেউ রিসিভ করেনি। প্রতিষ্ঠানের এমডি জনাব ক্যাপ্টেন সোহেল”র নাম্বারে কল করলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানা যায় যে, বেতন পরিশোধ করার ঝামেলা এড়াতে এমডি সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়েছেন।
এমন একটা দূর্যোগের সময় প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের কোন সারা না পেয়ে কর্মরতরা হতাশায় দিন পাড় করেছেন।
কর্মরতদের ভাষ্যমতে ‘লকডাউন মালিক পক্ষের জন্য এসেছে আশীর্বাদ হয়ে আর আমাদের জন্য হয়ে এসেছে অভিশাপ’। যার দরুন সরকারি ঘোষণার পরও খুলছে না প্রতিষ্ঠানটি এবং বেতন নিয়েও ভাবতে হচ্ছে না মালিক পক্ষেকপ। রেড জোন হিসেবে চট্টগ্রাম যদি আবারও সম্ভাব্য কঠোর লকডাউনের আওতায় পড়ে,তবে চরম অর্থকষ্টে থাকা মানুষগুলোর আর কোন উপায় থাকবে না, মালিকপক্ষ আবারও সেই লকডাউনের সুযোগ গ্রহণ করে সরকারের উপর দোষ চাপিয়ে লকডাউন অযুহাতে প্রতিষ্ঠান টানা বন্ধ রেখে লাপাতা হবেন বলে আশংকা করছেন এমপ্লয়িরা।
অনেকে আশায় ছিলেন যে, লকডাউন ও ঈদ শেষে শিপইয়ার্ড চালু হবে এবং বকেয়া টাকা পাবে। কিন্তু সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ৩১ শে মে থেকে দেশের সকল প্রতিষ্ঠান চালু হলেও, চালু হয়নি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিঃ।
বিগত সংকট ও ঈদকালীন সময়ে পরিশোধ করা হয়নি বকেয়ার একটি টাকাও।
বিগত লকডাউন সময়টিতে মানবেতর জীবনযাপন করা লোকজনের অনেকেই বাসা ভাড়া বাকি,দোকান বাকি ও বিভিন্ন ঋৃনে জর্জরিত হয়ে, আসবাবপত্র বিক্রি করে ঋৃন পরিশোধ করে স্বপরিবারে ফিরে গেছেন নিজ নিজ গ্রামের বাড়ীতে। অনেকেই এখনও বিভিন্ন বঞ্চনা অপমান সহ্য করে,হাজারো প্রতিকূলতার মধ্যে পথ চেয়ে আছেন প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণার দিকে ও বকেয়া বেতন পাওয়ার আশায়।
সকলের মনেই প্রশ্ন-
আদৌ কি চালু হবে শিপইয়ার্ড?
পরিশোধ কি করা হবে বকেয়া?
নাকি নায্য পাওনা আদায়ে নামতে হবে রাজপথে? মালিক পক্ষের অমানবিকতার কারনে আর কতদিন করতে হবে এই মানবেতর জীবনযাপন?

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রতিষ্ঠানটির ডিএমডি জনাব আব্দুল মোবিন’র নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন প্রতিবেদক।

উল্লেখ্য যে, শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সাল পর্যন্ত সুনামের সাথে দেশী বিদেশি জাহাজ নির্মাণ করে আসছিলো।বিগত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানটিতে অর্থনৈতিক মন্দা নেমে আসে। শতশত কোটি টাকা ব্যাংক লোন থাকায় ও আন্তর্জাতিক মানের কাজের অর্ডার কমে যাওয়ায় বিগত কয়েক বৎসর যাবৎ তেমন সুবিধা করে উঠতে পারছে না।
অভিযোগ আছে যে, দেশের এমন দূর্যোগের সময়ে বড় বড় প্রতিষ্ঠান গুলো বেতনের বাইরেও শ্রমিক কর্মচারীদের পাশে এসে বিভিন্ন সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে, সে ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের চিত্র একদমই ভিন্ন।
মালিকপক্ষের এমন অমানবিক আচরণে অতিষ্ট শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান যে, আগামী কয়েকদিন অপেক্ষা করে আমরা আমাদের নায্য পাওনা আদায়ে, শ্রমিক কর্মচারী কর্মকর্তারা সম্মিলিত ভাবে,নিরব  আন্দোলনের অংশ হিসেবে সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধন,ডিসি মহোদয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও প্রয়োজনে আমরন অনশন কর্মসূচি গ্রহণ করবো। এভাবে কাজ বিহীন, মাসের পর মাস বকেয়া পরিশোধ বিহীন বেঁচে থাকা আমাদের জন্য পুরোপুরি অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আর পারছি না।
এতোদিন প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও নিজেদের সামাজিক অবস্থানের কথা চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েও নেয়া হয়নি। এখন আর পারছি না। পাওনাদারদের কাছে লাঞ্ছিত হওয়ার চেয়ে অনেক ভালো নিজের পাওনা আদায়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। অন্তত আমাদের পাওনাদাররা ও মালিক পক্ষ বুঝবে যে আমরা মারাত্মক সমস্যায় দিনাতিপাত করছি।

ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

Sharing is caring!



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



More News Of This Category


বিজ্ঞাপন


প্রতিষ্ঠাতা : মোঃ মোস্তফা কামাল
প্রধান সম্পাদক : মোঃ ওমর ফারুক জালাল
সম্পাদক : মোঃ আমিনুল ইসলাম(আমিন মোস্তফা)
নির্বাহী সম্পাদক : এ আর হানিফ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শেখ মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ
কার্যালয় :-
৫৩ মর্ডান ম্যানশন (১২ তলা)
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ইমেইল : ajsaradin24@gmail.com
টেলিফোন : +8802-57160934
মোবাইল: 01725-484563,01942-741920
টপ